ওয়ানডেকে বিদায় জানালেন স্মিথ

ওয়ানডেকে বিদায় জানালেন স্মিথ

ভাঙাচোড়া দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমি-ফাইনালে তুলেছিলেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আর পেরে উঠেনি তার দল। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর আচমকাই ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন এই তারকা ব্যাটার। তবে টেস্ট টি-টুয়েন্টি চালিয়ে যাবেন তিনি।

মঙ্গলবার দুবাইয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে উইকেটে হারের ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন স্মিথ। এরপরই সতীর্থদের কাছে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা জানান এই ফরম্যাটে দুটি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।

অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বুধবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক বিবৃতিতে স্মিথ জানান, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দল গোছানোর সুযোগ করে দিতে তিনি এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নিয়েছেন।

এটি দারুণ এক যাত্রা ছিল এবং আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। দুইবার বিশ্বকাপ জেতা ছিল অসাধারণ, সেই সঙ্গে অসংখ্য দারুণ স্মৃতি দুর্দান্ত সতীর্থদের সঙ্গে পথচলা সত্যিই বিশেষ কিছু। এখন ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করার সময়। তাই সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময় মনে হয়েছে।

২০১০ সালে স্পিন-অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানডেতে অভিষেকের পর থেকে স্মিথ ১৭০ ওয়ানডেতে ৪৩ দশমিক ২৮ গড়ে হাজার ৮০০ রান করেছেন। শতক হাঁকিয়েছেন ১২টি।

ঘরের মাঠে ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ফাইনালে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি তার ব্যাট থেকে আসে ম্যাচজয়ী বাউন্ডারিটি। এছাড়া ২০২৩ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলেও ছিলেন ৩৫ বছর এই ক্রিকেটার। 

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন স্মিথ। তবে ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে অধিনায়কত্ব হারানোসহ এক বছরের জন্য সবধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে আবারও তিন ফরম্যাটেই অস্ট্রেলিয়া দলে জায়গা করে নেন। 

নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের অবর্তমানে চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কা সফরে এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়াকে আবারও নেতৃত্ব দেন স্মিথ। একদিনের ক্রিকেটে শেষটা করলেন অধিনায়ক হিসেবে।

টেস্ট ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া ডানহাতি এই ব্যাটার বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট এখনও আমার প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার মনে হয়, এই পর্যায়ে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে।

মন্তব্য করুন: