দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড

ফাইনালে উঠতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গড়তে হতো আইসিসির ওয়ানডে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। কিছুটা সময় পর্যন্ত সে পথেই ছিল তারা। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে নিউ জিল্যান্ড স্পিনারদের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে খেই হারিয়ে ফেলে প্রোটিয়ারা। ৫০ রানের জয়ে ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উঠেছে কিউইরা।

বুধবার লাহোরে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে রাচিন রবীন্দ্র ও কেইন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেট হারিয়ে টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩৬২ রানের সংগ্রহ গড়ে নিউ জিল্যান্ড। জবাবে শেষ দিকে ডেভিড মিলার ঝড়ো সেঞ্চুরি হাঁকালেও তা বড্ড দেরি হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ৩১২ রানে।

আগামী রোববার দুবাইয়ের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে মিচেল স্যান্টনারের দল। ২০০০ সালে একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নিজেদের একমাত্র চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতেছিল কিউইরা।

ম্যাচ জিততে হলে চলতি টুর্নামেন্টেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩৫২ রান তাড়া করার রেকর্ড ভাঙতে হতো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর টেম্বা বাভুমা ও রাসি ফন ডার ডুসেনের ব্যাটে সে পথেই ছিল তারা। কিন্তু এই জুটি শত রান যোগ করার পরই কিউই স্পিনের সামনে ধসে পড়ে পুরো ব্যাটিং-অর্ডার, যার শুরুটা করেন স্যান্টনার।

৫৬ রান করা প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে ফিরিয়ে ১০৫ রানের জুটিটি ভাঙেন কিউই অধিনায়ক। এরপর ৬৯ রান করে ক্রিজে থিতু হওয়া ডুসেনকে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। নিজের পরের ওভারে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই হাইনরিখ ক্লাসেনকেও (৩) তুলে নেন স্যান্টনার।

৭ ওভারের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় প্রোটিয়ারা। পঞ্চম উইকেটে ডেভিড মিলারকে নিয়ে এইডেন মারক্রাম জুটি গড়ে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা হতে দেননি রবীন্দ্র। ফিরতি ক্যাচে মারক্রামকে (৩১) তুলে নিয়ে ভাঙেন ২২ রানের জুটিটি। ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে দ্রুতই সাজঘরের পথ দেখেন ভিয়ান মুল্ডার, মার্কো ইয়েনসেন ও কেশব মহারাজ। শেষ দিকে ৬৭ বলে মিলারের ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানটাই কেবল কমে।

৩ উইকেট নেন স্যান্টনার। অফস্পিনে গ্লেন ফিলিপস ও ডানহাতি পেসে ম্যাট হেনরি ২ করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উইল ইয়ং ও রবীন্দ্র উদ্বোধনী জুটি থেকে ৪৮ রান পায় নিউ জিল্যান্ড। অষ্টম ওভারে এই জুটি ভাঙার বোলারদের শাসন করতে শুরু করেন রবীন্দ্র ও উইলিয়ামসন।

৯৩ বলে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক তুলে নেন রবীন্দ্র। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই ব্যাটারের সবকটি সেঞ্চুরিই এল আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে। কাগিসো রাবাদার বলে তিনি ফেরেন ১০১ বলে ১৩ চার ও ১ ছক্কায় ১০৮ রান করে। ভাঙে ১৬৪ রানের জুটি।

অবশ্য এই বড় জুটির পেছনে অবদান আছে ক্লাসেনেরও। ৮৩ রানে থাকা রবীন্দ্র ও ৫৬ রানে থাকা উইলিয়ামসনের ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন এই উইকেটকিপার।

সঙ্গীর বিদায়ের পর ৯১ বলে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি তার টানা তৃতীয় ওয়ানডে শতক। তিনি ফেরেন ৯৪ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০২ রান করে।

শেষ ১০ ওভারে ড্যারিল মিচেল ও ফিলিপসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের খাতায় যোগ হয় ১১০ রান। মিচেল ফেরেন ৪৯ রান করে। ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে রেকর্ড সংগ্রহ এনে দেন ফিলিপস।

মন্তব্য করুন: