সুস্থ থাকতে হলে ধূমপান ছাড়তেই হবে তামিমকে
২৭ মার্চ ২০২৫

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ খেলতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করার পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ফলে এখন অনেকটাই সুস্থ তামিম ইকবাল। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভার থেকে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকার একটি হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় এখন তাকে কেবিনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সুস্থ থাকতে হলে দেশসেরা এই ওপেনারকে ধূমপান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার সাভারে বিকেএসপিতে মোহামেডানের হয়ে ম্যাচ খেলার সময় হার্ট অ্যাটাক হয় তামিমের। এরপর নিকটস্থ কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে অ্যানজিওপ্লাস্টি করে তার হার্টে স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়।
সেখানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে তামিমকে রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাঁহাতি এই ব্যাটারের চিকিৎসা চলছে।
তামিমের সবশেষ অবস্থা জানাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তার চিকিৎসক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, “কিছুক্ষণ আগে আমি তার ইকো করিয়েছি… সবমিলিয়ে সে খুবই ভালো একটি জীবনযাপন করতে পারবে। আর ক্রিকেটে ফিরবে কি ফিরবে না, সেটা আমরা তিন-চার মাস পর পরীক্ষা করে – হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের দল ও ফিজিওরা বসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলব। তবে এটার জন্য সময়ের প্রয়োজন আছে।”
“এখন যেটা হবে সেটা হলো – পুনর্বাসন, রিস্ক ফ্যাক্টর মডিফিকেশন, ওর যে ঝুঁকিগুলো আছে। সে একজন ধূমপায়ী। তাকে ধূমপান ছাড়তেই হবে।”
তামিমের ভাই ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবালের হৃদরোগের সমস্যা আছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের বাবাও।
“ওদের রক্ত জমাট বাধার একটা প্রবণতা আছে, সেটা ওর হয়েছে। তার ব্লক ছিল প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। তারপর রক্ত জমাট বেধে সম্পূর্ণ হার্ট অ্যাটাকটা হয়েছে”
“ভবিষ্যতে আবার হতে পারে, ব্লক না থাকলেও। তাই তাকে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। ডায়েট, ডিসিপ্লিন, ড্রাগ (ওষুধ) মেনে চলতে হবে। তামিমের টিম, তার পরিবার ও তামিমের নিজেকে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। শুধু আমরা চিকিৎসা দিলেই হবে না, মেনে চলতে হবে।”
এত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তামিম এখনও ধূমপান করার উদগ্রীব হয়ে আছেন জানিয়ে তার চিকিৎসক বলেন, “প্রথমে তো বলেছিল আমি ছাড়তেই পারবে না। পরে বলল যে, ভেপ নিব? আমি বললাম যে, না ভেপও নিতে পারবে না। ভেপে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।”
“তার পর আজকে সকালে সে বুঝল। এরপর বললাম, নিকোটিন প্যাচ অথবা নিকোটিন গাম আমরা দেই, সে রাজি হলো। সে সিগারেট খেতে চাচ্ছে কিন্তু আমরা তাকে তা করতে দিচ্ছি না। কারণ এই সিগারেট খেলে ওনার যে সমস্যাটা হয়েছিল, সেটা আবার হতে পারে।”
কবে নাগাদ তামিম বাড়ি ফিরতে পারবেন সে বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, “আজকে তাকে কেবিনে দেওয়া হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব, হাঁটাব, এরপর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে হবে… সে জন্য আমরা পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দেব। তবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। হয়তোবা দুই-একদিন পর মেডিকেল টিম বসে আলোচনা করে সেটা আমরা নিশ্চিত করব যে, কবে ছাড়ব।”
মন্তব্য করুন: