অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হারল পাকিস্তান
২৯ মার্চ ২০২৫

মার্ক চ্যাপম্যানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়েছিল নিউ জিল্যান্ড। রান তাড়ায় বাবর আজম ও সালমান আলী আগার ব্যাটে ভালোই জবাব দিচ্ছিল পাকিস্তানও। কিন্তু এরপরই ঘটল ছন্দপতন। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে ২২ রানের ভেতর শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে গেল তারা। অনভিজ্ঞ দল নিয়ে ৭৩ রানের জয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে কিউইরা।
শনিবার নেপিয়ারে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চ্যাপম্যানের ১৩২ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ৩৪৪ রানের সংগ্রহ পায় নিউ জিল্যান্ড। জবাবে পেসারদের তোপে ৩৫ বল আগে ২৭১ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় দলকে দারুণ শুরু এনে দেন আবদুল্লাহ শফিক ও উসমান খান। উদ্বোধনী জুটিতে এই দুই ব্যাটার ৭৬ বলে যোগ করেন ৮৩ রান। ৩৯ রান করা উসমানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙে স্বাগতিকদের স্বস্তি এনে দেন ন্যাথান স্মিথ। সঙ্গীর বিদায়ের পর দ্রুত ফেরেন শফিকও (৩৬)।
তৃতীয় উইকেটে বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৭৬ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে পাকিস্তান। ৩০ রান করে অধিনায়ক রিজওয়ান ফিরলে সালমানকে নিয়ে ভিত গড়তে শুরু করেন বাবর। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩৬তম ফিফটি। ৭৮ রান করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ৮৫ রানের আক্রমণাত্মক জুটিটি ভাঙেন উইল ওরোর্ক। এরপরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পুরো ব্যাটিং-অর্ডার।
৩৮ ওভার ৪ বলে দলীয় ২৪৯ রানে বাবর সাজঘরে ফেরার পর পাকিস্তান ইনিংসের স্থায়িত্ব ছিল কেবল ৩৩ বল। স্মিথ ও জ্যাকব ডাফির পেস তাণ্ডবে শেষ ছয় ব্যাটার মিলে মাত্র ৩ রান তুলতে সক্ষম হন। সতীর্থদের আসা-যাওয়া মিছিল দেখতে থাকা সালমান ফেরেন ৫৮ রান করে। স্মিথের শিকার ৪ উইকেট।
ওয়ানডেতে শেষ ছয় ব্যাটার মিলে এর চেয়ে কম রান করার ঘটনা আছে আরও দুইবার। ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা ০ এবং ২০১১ সালে কেনিয়ার ব্যাটাররা ২ রান করতে পারেন।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। ৫০ রানের ভেতর টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে দারুণ চাপে পড়ে তারা। চতুর্থ উইকেটে ড্যারিল মিচেলকে নিয়ে ১৯৯ রানের জুটি গড়ে সেই চাপ সামাল দেন চ্যাপম্যান। ৯৪ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক হাঁকান এই বাঁহাতি ব্যাটার। মিচেল ফেরেন ৭৬ রান করে।
এরপরই বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন চ্যাপম্যান ও অভিষিক্ত মুহাম্মদ আব্বাস। ২৪ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে অভিষেকে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আব্বাস। আগের রেকর্ডটি ছিল ২৬ বলের। ইনিংসের শেষ বলে ৩টি চার ও ছক্কায় ৫২ রান করে আউট হন ডানহাতি এই ব্যাটার। আর ১১১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি চ্যাপম্যান সাজান ১৩ চার ও ৬ ছক্কায়।
বুধবার হ্যামিল্টনে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে মাঠে গড়াবে।
মন্তব্য করুন: