বাড়ি ফিরে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন তামিম
২৯ মার্চ ২০২৫

হার্ট অ্যাটাকের পর চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। সময় মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বেঁচে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আর এ সময় মোহামেডানের সাপোর্ট স্টাফ থেকে শুরু করে তার পাশে থাকা চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তামিম।
গত সোমবার মোহামেডানের হয়ে সাভারের বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করেন তামিম। এরপর দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শুক্রবার দুপুরে তিনি বাড়িতে ফেরেন। রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
“আপনাদের সবার দোয়ায় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে এখন আমি বাসায়। উথালপাথাল এই চারটি দিনে নতুন জীবন যেমন পেয়েছি, তেমনি আমার চারপাশকে আবিষ্কার করেছি নতুন করে। সেই উপলব্ধির সবটুকুতে মিশে আছে কেবল ভালোলাগা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সবার ভালোবাসার ছোঁয়া ক্যারিয়ারজুড়ে নানা সময়ই পেয়েছি। তবে এবার তা অনুভব করতে পেরেছি আরও তীব্রভাবে। আমি সত্যিই আপ্লুত।”
“বিকেএসপিতে আমার অসুস্থতার শুরু থেকেই অনেককে পাশে পেয়েছি তাৎক্ষণিকভাবে। ম্যাচ রেফারি দেবু দা (দেবব্রত পাল), বিকেএসপির চিকিৎসকরা এবং আরও যারা তখন ছিলেন সেখানে, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার যে ভাই আমাকে দ্রুতগতিতে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
“আমাদের ট্রেনার ইয়াকুব চৌধুরী ডালিম ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব কীভাবে, আমার আসলে জানা নেই। আমি পরে জেনেছি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন যে, ডালিম ভাই ওই সময় সঠিকভাবে সিপিআর না দিলে হয়তো আমাকে বাঁচানো যেত না। উপযুক্ত মানুষকে উপযুক্ত সময়ে আমার পাশে রেখে আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়েছেন।”
“মোহামেডানের সাপোর্ট স্টাফ ওয়াসিমের কথা না বললেও নয়। শুরু থেকে এখনও সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়েই আছে আমার।”
বুকে অস্বস্তি নিয়ে প্রথমে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়েছিলেন তামিম। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টারও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু হেলিকপ্টারে ওঠার আগেই অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও তাকে কেপিজে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানজিওপ্লাস্টি করে তার হার্টে স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান তামিম।
“কেপিজে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মারুফ ও তার দক্ষ চিকিৎসক দল তাদের পেশাদারিত্ব আর আন্তরিকতার মিশেলে যেভাবে দ্রুততায় চিকিৎসা করেছেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকদের মান ও কার্যকারিতাই ফুটে উঠেছে তাতে। আমি পরে শুনেছি যে, দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডা. মারুফ ও তার দল মিরাকল ঘটিয়েছেন। গোটা চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা থেকে শুরু করে যারা যে কোনোভাবে যতটুকু সম্পৃক্ত ছিলেন, সবাইকে হৃদয়ে লালন করব আজীবন।”
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কেপিজের মতো আরও বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির আহ্বান জানিয়ে তামিম লেখেন, “ঢাকা শহরের বাইরে ওই এলাকায় এতটা উঁচু মানের হাসপাতাল আছে, এতটা কুশলী চিকিৎসক দল ও স্টাফরা আছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এগিয়ে চলার একটি প্রমাণ এটি। দেশজুড়ে নানা জায়গায় এর কাছাকাছি মানের হাসপাতাল যদি আরও কিছু থাকে, আমার মতো আরও অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা পেতে পারে।”
ভক্ত-সমর্থক সবার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া চেয়ে তার স্ট্যাটাস শেষ করেন।
“ধন্যবাদের তালিকা আসলে শেষ হওয়ার নয়। আরও অনেকেই নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, অনেকের কথা জানি, অনেকের কথা হয়তো জানি না।… পুরোপুরি সেরে ওঠার পথ এখনও দীর্ঘ। আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রার্থনায় রাখবেন। সবার জীবন সুন্দর ও শান্তিময় হোক।”
মন্তব্য করুন: